
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। পর্ব -১
ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল, কুমিল্লার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির জাল।
আবুল কালাম মজুমদার
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যেন দুর্নীতির এক অভেদ্য দুর্গ। মানবিকতা এখানে একদল অসাধু কর্মচারীর লালসার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এমনকি হার্টের বাইপাস সার্জারির মতো জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ করতে এসেও নিস্তার পাচ্ছেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
অভিযোগ উঠেছে, ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট’ থেকে সহায়তার ফাইল ছাড় করাতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।
আমাদের প্রতিনিধির দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার ২ হাজার ১০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা কোনো না কোনোভাবে এই অফিসের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের হাতে জিম্মি।
প্রশাসনিক হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পান না অনেক কর্মচারী।
অমানবিকতার চরম চিত্র:
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক শিক্ষিকার স্বামী সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাইপাস সার্জারির পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। চিকিৎসার ঋণ মেটাতে ওই শিক্ষিকা ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট’ থেকে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী এই সহায়তা দ্রুত পাওয়ার কথা থাকলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী নাজমা আক্তার ফাইলটি আটকে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফাইলটি অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে নাজমা আক্তার সরাসরি ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে ওই পরিবারটি ধারের টাকা থেকে নাজমার দাবীকৃত অর্থপরিশোধ করতে বাধ্য হয়।
সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট:
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, নাজমা আক্তার দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। শিক্ষকদের পেনশন, উচ্চতর গ্রেড, জিপিএফ লোন কিংবা সাধারণ ইনক্রিমেন্টের ফাইল অনুমোদনে তিনি নির্দিষ্ট অংকের ‘টেবিল মানি’ ছাড়া কাজ করেন না।
এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে উচ্চমান সহকারী শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, কম্পিউটার অপারেটর জাকির হোসেন, অফিস সহকারী আবদুর সাত্তার ও সানোয়ার হোসেনের নাম উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সিন্ডিকেট উপজেলা পর্যায়ের কিছু অসাধু পিয়নের মাধ্যমে অর্থের দরদাম নির্ধারণ করে। অনেক শিক্ষক দায়িত্ব অবহেলা করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও এই সিন্ডিকেটকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে পার পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত নাজমা আক্তার কে জানতে চাইলে অস্বীকার করে সাংবাদিক কে হুমকি দমকি দেন তারপর বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনসুর আলী চৌধুরী কে অফিস ল্যান্ড ফোনে, মোবাইলে এবং ই-মেইল করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, ভূক্তভোগীর অভিযোগ আমার টেবিলে এখনো আসেনি। দেখে প্রশাসনিক ব্যবস্হা নিবেন বলে আশ্বাস দেন।
কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, বিযয়টা খতিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্হা নেয়ার আশ্বাস দেন।